বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁওয়ে নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
- পোষ্ট টাইম : 2026-06-16 15:14:09
- 332 বার পঠিত
ঢাকার মহাখালী ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপের শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং মহাখালী-তেজগাঁও লিংক রোডের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অবরোধ করেন। এর ফলে ওই এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং চারপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাসা গ্রুপের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার একটি কারখানার শ্রমিকেরা গত দুই মাসের বকেয়া বেতন এবং চলতি মাসের ওভারটাইমের টাকা পাচ্ছেন না। শ্রমিকদের দাবি, বারবার মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেবল নতুন নতুন তারিখ দিয়ে টালবাহানা করে আসছিল।
কারখানার একজন অপারেটর সুমি আক্তার বলেন, "গত মাসের বেতন দেওয়ার কথা বলে আমাদের কয়েকবার ঘোরানো হয়েছে। ঘরভাড়া দিতে পারছি না, দোকানে বাকি দিতে পারছি না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা আজ কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।"
শ্রমিকদের আরেকটি অংশ অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ঠিকমতো বেতন না পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মালিকপক্ষ বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আজকের এই সড়ক অবরোধে।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শত শত শ্রমিক ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে কারখানার বাইরে এসে তেজগাঁও-মহাখালী লিংক রোড অবরোধ করেন। এ সময় তারা বকেয়া পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
ব্যস্ততম এই সড়কটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাখালী, গুলশান-১, বেগুনবাড়ী, সাতরাস্তা এবং নাবিস্কো মোড় এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তীব্র গরমের মধ্যে বাসের যাত্রী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং রাস্তার ওপর থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে শ্রমিকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মালিকপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসে বকেয়া পরিশোধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা ছাড়বেন না।
পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ এবং নাসা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের একটি বড় অংশ পরিশোধ করা হবে এবং বাকি টাকা চলতি মাসের শেষ নাগাদ সমন্বয় করা হবে।
কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসের পর এবং পুলিশের অনুরোধে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক থেকে সরে যান এবং কারখানার ভেতরে ফিরে যান। শ্রমিকেরা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশ দ্রুত যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে। প্রায় দুই ঘণ্টার স্থবিরতা কাটিয়ে দুপুর ১টা নাগাদ মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "শ্রমিকদের বকেয়া বেতন নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। তারা আজ সকালে রাস্তা অবরোধ করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।"
এ বিষয়ে নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্যাংকিং কিছু জটিলতা এবং তৈরি পোশাকের শিপমেন্ট সময়মতো না হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বেতনের এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তারা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে আন্তরিক এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
